mercredi 28 mai 2008

একজন তসলীমা নাসরিনের অপরাধ

আমি কখনই তসলীমা'কে আমার মনের মধ্যে বসাতে পারিনি । দু'টি কারনের একটি হলো ধর্ম সেটা যে ধর্মই হোক আরেকটি মানুষ । ধর্ম নিয়ে উটকো কথা বললেই মনে হয়, সে একজন নরকের কীট । নিজের ধর্ম শিখিয়েছে অন্য ধর্মকে সম্মান করতে । (তাই কৌশিকের মত অন্য কোনো ধর্মের মানুষকে খুঁচিয়ে দেখতে ইচ্ছা করেনা তার ধর্মের বিশ্বাস মলমুত্রের ন্যয় নরম কিনা ! )আর এই ধর্ম যেমন আমাকে শিখিয়েছে অন্য ধর্মকে সম্মান করতে তেমনি শিখিয়েছে অন্য মানুষকেও সম্মান করতে ।

ধর্ম সম্পর্কে তসলীমা নাসরিনের মন্তব্য : ধর্মের দালান-কোঠা যদি মানুষে মানুষে ভালোবাসা নষ্ট করে তবে এই পৃথিবী থেকে ধ্বংস হয়ে যাক মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা আর গীর্জার সকল অস্তিত্ব । ইট সুড়কিরে চেয়ে মানুষ বড়, ইট সুড়কির চেয়ে ভালোবাসা বড় । (নির্বাচিত কলাম:৯৫)
~~~~ আমি জানিনা অন্য ধর্ম বিশ্বাসীরা এই উক্তি শুনে কি বলবে কিন্তু আমি বলব, একজন উন্মাদের মুখ থেকেই এটা বের হতে পারে । তসলিমা, একটি বার চোখ খুলে দেখেছেন যখন কক্সবাজার , চট্টগ্রামে দশ নাম্বার বিপদ সংকেত দেওয়া হয় তখন সেই মন্দির মসজিদ আর প্যাগোডাতে চলে প্রার্থনা । প্রার্থনা চলে কোনো মানুষের যেন বিপদে না পড়ে সেজন্য ।


ধর্ম সম্পর্কে তসলীমা নাসরিনের মন্তব্য : ওরা জেরুজালেম, হেরা পর্বতে বসে ধর্ম রচনা করেছে । এই ধর্মকে ওরা পবিত্র ঘোষণা করেছে । এই পবিত্রতার দোহায় দিয়ে তোমাকে ( নারীকে ) পায়ের নিচে স্থান দিচ্ছে , আবৃত করছে , অনাবৃত করছে । ওরা তো মানুষ নয় , ওরা পুরুষ ।
~~~~ হায়রে ! তুমি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়ে নাম ধারণ করলে মুসলিম নাম । কিন্তু একটিবার কোরান পড়ে দেখার সময় তোমার হলো না । পড়ে দেখলে বুঝতে, মানুষ পারে মানব ধর্ম রচনা করতে , পারেনা ইসলাম ধর্ম রচনা করতে । কোরানটা তুলে পড়নি বলে জানলেও না একজন মায়ের ( একজন নারীর ) পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত । সেটা হোক ছেলে , হোক মেয়ে ।


------- ------- ------- ------- -------


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (নারী) : নারী ধর্ষণ করতে শিখুক, ব্যভিচার করতে অভ্যস্ত হোক । নারী খাদকের ভূমিকায় না এলে তার খাদ্য নামের কলংক ঘুচবে না । এখন ভালো কথার যুগ নয়, নীতি বাক্যের সময় নয় । কাঁটা দিয়েই আজকাল কাঁটা তুলতে হয় । (নির্বাচিত কলাম : ১০৭)
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । উমম নাহ , তসলীমার এই মন্তব্যটি নারীদের উপর ছেড়ে দিলাম । একটুখানি মন দিয়ে চিন্তা করে উত্তরটা জানিয়ে দিয়ে গেলে কৃতজ্ঞ থাকব ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (নারী) : পুরুষকে খুশী করা ছাড়া সাধারণত নারীর অন্য কোনো কাজ নেই । ~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । উমম নাহ , তসলীমার এই মন্তব্যটি নারীদের উপর ছেড়ে দিলাম । একটুখানি মন দিয়ে চিন্তা করে উত্তরটা জানিয়ে দিয়ে গেলে কৃতজ্ঞ থাকব ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : নারীকে নারী অংগের বাইরে কেও কল্পনা করার অভ্যাস কারো গড়ে ওঠেনি । এই অংগকে পুরুষেরা বরাবরই খাদ্য হিসাবে গ্রহন করেছে । ( নির্বাচিত কলাম:১০৬)
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন এবং তসলীমা নাসরিনের বক্তব্যের সাথে একমত হওয়া পুরুষ মানুষ । আমি নারীকে মনে করি মা , নারীকে মনে করি বোন , নারীকে মনে করি খালা , নারীকে মনে করি নিজের সুন্দর স্ত্রী । আর শ্রেষ্ঠ সম্মানগুলো তাদেরই করি ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : স্ত্রৈণ শব্দটির অর্থ স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য । অর্থাৎ যে ছেলে তার স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য তাকে স্ত্রৈণ বলা হয় । কিন্তু যে ছেলে স্ত্রৈণ তাকে কেউ ভালো চোখে দেখে না । বরং তার দিকে তাকিয়ে আড়চোখে তাকিয়ে উপহাসের হাসি হাসে । (নির্বাচিত কলাম : ৫১-৫২)
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরীন । আমি আমার স্ত্রীর অতিশয় বাধ্য , তাই বলে শুনতে হয়নি কোনো কটুকথা , পরতে হয়নি কোনো উপহাসে । বরং দেখে এসেছি যারা তাদের স্ত্রীকে জ্বালিয়ে মারে তাদের উপর সমাজের শাস্তি ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : যে তুমি মুখ থুবড়ে পড়ে আছো নারী, তোমার সারা শরীরে পুরুষের কামড় । তোমাকে শুকতে একটি কুকুরও বেদনায় নীল হবে সেই তোমাকেই যদি কেও পুনরায় কামড়ায় সে কোনো শূকর নয় সে কোনো কাল কেউটে নয় সে পুরুষ ।
~~~~ হায়রে তসলিমা ! ভুলে গেলে তোমার জন্মদাতা পিতাও একজন পুরুষ ? আর কিছু মানুষের জন্য সম্পূর্ণ পুরুষ জাতীকে তুলনা করলে শূকরের চেয়ে নিকৃষ্ঠ ? করুণা তোমার জন্য ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : ওরা মৃত্যুর আরেক নাম , ওরা পরুষ । তোমার দিকে ধেয়ে আসা পুরুষেরা মূলত আসে অবাধ কাম ও অনিয়ন্ত্রিত ক্রোধের কারণে , কতৃত্ব বোধের ক্রোধ ।
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । আমি নারীর ( আমার মা )'র দিকে যাই একটু স্নেহ পাওয়ার জন্য , একটু মমতা পাওয়ার জন্য ।


মানুষ সম্পর্কে তসলিমার মন্তব্য (পুরুষ) : ওরা তোমার বিকেলের চায়ে বিষ মিশিয়ে দেবে ওরা দল বেধে তোমাকে ধর্ষণ করতে আসবে , ওরা মানুষ নয় ওরা পুরুষ ।
~~~~ আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন । আমরা বিকেলের চা একসাথে খাই মা , বোন আর স্ত্রীর সাথে ।


আমি দুঃখিত তসলীমা নাসরিন , খুব দেখার ইচ্ছা হলে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির শাস্তি , দেখার ইচ্ছা ছিলো পুরুষ-নারীকে নিয়ে কটূ কথা বলার শাস্তি । ইচ্ছাটাকে এখনো দমন করিনি । চেয়ে আছি । আর এই ব্লগের যারা দোষ দেখতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য উপরের পয়েন্ট গুলা দিলাম । অবশ্য যারা তসলিমার মত মানব ধর্মে নিয়ে আছেন তারা ধর্ম সম্পর্কে কটূ কথা বললেও তাদের লাগবে না । তবে একটিবার চিন্তা করে দেখুন তো আশেপাসের পুরুষ আর নারীদেরকে নিয়ে করা মন্তব্যগুলো কতটা বিবেক সম্পন্ন ।

lundi 7 janvier 2008

শাওন তুমি গ্রামের ছেলে গ্রামে ফিরে যাও , শহরের সভ্য যান্ত্রিক সমাজে তোমার মতো ছেলে নোংরা আবর্জনা ছাড়া অন্য কিছু নও [পর্ব :৩ ]

ক্লাস ৪ এ পড়ার সময় বাবাকে ধরলাম ঘুড়ি বানিয়ে দিতে হবে । ঘুড়ো ওড়াবো । অন্যদিক থেকে মা'র চিল্লানী শুনলাম : "ঘুড়ি আর ঘুড়ির মালিক কেও রাতে বাসায় থাকতে পারবেনা । ঘুড়ো ওড়ায় কারা ? যারা পড়ালেখা করেনা , বিকাল না হতেই কপোতাক্ষর পাসে গিয়ে ঠাঠা রোদে ঘুড়ি ওড়ায় " । প্রতিটা জিনিসের একজন পক্ষে থাকবে আরেকজন বিপক্ষে থাকবেই । মা গেলো বিপক্ষে । বাবা খুব সাহসী বুক নিয়ে হাজির হলো আমার পাশে । খেয়ে না খেয়ে সেই ঘুড়ি বানানঅ হলো । বিশাল বড় লন্ঠন ঘুড়ি ।

টানটান উত্তেজন পরের দিন । আমাদের ছেড়ে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নে বিভোর ছিলো সেই ঘুড়ি । সেই স্বপ্ন নিয়ে নীল আকাশে ওড়াল দিলো সে । এমন ওড়াল দিলো যে আর ফিরে এলোনা ।

ক্লাস ৫ এ উঠে সব থেকে মজার ঘটনা ঘটেছে । জীবনের প্রথম লাভ লেটার পড়তে পারার ঘটনা । প্রথম লাভ লেটার । বুক দুরু দুরু । হাতে নিয়ে প্রথম প্যারা শেষ করলাম এক দমে । পরের টুকু আর পড়িনি । মনের ভেতরে ভয় কাজ করতেছিলো তাই । তখনই ৫০ পয়সা দিয়ে ম্যাচ কিনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেললাম ।

দ্বিতীয় লাভ লেটার । ঘরা বসে পড়তেছি , পাসে আমার মা জননী । জানালা অর্ধেক খোলা । অনেক্ষণ থেকেই লক্ষ্য করতেছিলাম ক্লাসের জয়ন্তী মেয়েটা আমাদের বাসার সামনে । হঠাৎ চিঠিটা এসে পড়লো আমার খাটে । যা হবার তাই হলো । প্রথম বারের মতই এবারও পড়া হলোনা জিনিসটা । দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় বাবা মার হাসি ঠাট্টা শুনতে হলো । মা বললো : আগেও পেয়েছিস নাকি ? আমি দাত কেলিয়ে বলি : হু কিন্তু আগে ছিলো আরেকটা মেয়ে ।

শাওন তুমি গ্রামের ছেলে গ্রামে ফিরে যাও , শহরের সভ্য যান্ত্রিক সমাজে তোমার মতো ছেলে নোংরা আবর্জনা ছাড়া অন্য কিছু নও [পর্ব : ২ ]

মঙ্গলবার রাত ১২টা ২১ মিনিটে দাদার আত্মাটা আল্লাহর কাছে রওয়ানা দিলো তখন তার মাথাটা আমার মার হাতের উপর । আমি পাসের কাটে বসে বসে আমার মার চিল্লানী শুনতেছি । মা জোরে জোরে বাবাকে ডাকতেছে । বাবা উপরের ঘরে শুয়ে আছে । আর পাশের ঠিক ২ মিটার মত দূরের ঘরে শুয়ে আছে ছোট চাচা-চাচী ।

দাদা মারা যাওয়ার ৩-৪ মাস আগ থেকে রাতে ঘুমাতেন না । সারা রাত জেগে জেগে কথা বলতেন । আমার দাদু বলতো যাদের কথা বলে তোর দাদা তারা প্রায় ৪-৫ পুরুষ আগের মানুষ । দাদা নাকি তাদের দেখতে পেতো । তারা নাকি দাদাকে ডাকতো । এইসব কথা শোনার কোনো মানে হয়না বা এইসব কথা শুনে রাতের ঘুম নষ্ট করার মানে নাই বলে যে যার মত ঘুমাতো । আর আমার মা রাত যেগে যেগে দাদার কথা শুনতেন । আমি মা ছাড়া ঘুমাবো না বলে পাসের খাটে ঘুমাতাম ।

মা সবসময় দাদাকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করতেন । কিন্তু যা হবার তাই হলো , দাদার আত্মা যখন চলে গেলো তখন অযূ ছিলোনা দাদার । সেজন্য এখনো আমার মাকে লুকিয়ে লুকিয়ে কাদঁতে দেখেছি ।

রোযার মাসে ডান হাত ভাংলাম । তখন সাথে ছিলো লিংকন শয়তানটা । আমার জীবনের সব দূর্ঘটনা যখন ঘটে তখন এক আশ্চর্য কারণে সে আমার সাথে থাকে । থানা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো সাথে সাথে । কিন্তু ডাক্তাররাও তো মানুষ , তারা ভালোভাবে প্লাষ্টার করলো না । ১ সপ্তাহ পর সেই প্লাষ্টার আবার খুলে ফেলা হলো , তখন হাতের অবস্থা খুবই করূণ । যশোহর নিয়ে গেলো বাবা মা । যশোহরে থাকলাম ১ মাস। বড় ফুপু ডাক্তার বলে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকতেন । ওখানে ঘরের মধ্যে কাটালাম ১ মাস ।

দক্ষিণাঞ্চলে মৎস্য ঘেরের জন্য বিখ্যাত । আর আমার পরিচিত দের মধ্যে অনেকের ঘের ছিলো । স্কুলের পরীক্ষা হয়ে গেলে ঘেরে যেয়ে রাত কাটাতাম । সেই মানুষগুলো খুবই রসিক । মাসে ৭০০-৮০০টাকা করে পেতো ঘেরের কাজের জন্য । দরীদ্রতার শেষ ছিলোনা তাদের । তাদের সাথে নৌকা চড়ে চড়ে রাত ১২-১ টার দিকে মাছ মারার সময়টাছিলো অসাধারণ । রাতে যখন মাছ মারার জন্য রওয়ানা দিতো তখন তাদের সাথে থাকতো ৭ব্যাটারীর টর্চলাইট । চাদঁনী রাতে সে এক অসম্ভব ভালো লাগার মুহূর্ত । ভোর ৪-৫টার দিকে লোকেরা আসতো মাছ কেনার জন্য , কারণ সেই মাছ বাজারে যেয়ে বেঁচবে সকালেই । তাজা মাছ বেঁচাতে দাম বেশী হয় । মাইলের পর মাইল তারা মাথায় মাছের ঝুড়ি নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বাজারে যেতো ।

শাওন তুমি গ্রামের ছেলে গ্রামে ফিরে যাও , শহরের সভ্য যান্ত্রিক সমাজে তোমার মত ছেলে নোংরা আবর্জনা ছাড়া আর কিছু নও


--- শাওন তুমি গ্রামের ছেলে গ্রামে ফিরে যাও , শহরের সভ্য যান্ত্রিক সমাজে তোমার মত ছেলে নোংরা আবর্জনা ছাড়া আর কিছু নও ---


যান্ত্রিক সমাজের দিন মনে হয় শেষ হয়ে এসেছে । শাওন উঠে দাড়ায় ; পথিবীটা ঘুরতে থাকে ।


পাশের বাড়ির ছেলেমেয়েরা ব্যাডমিন্টন খেলতো । সেটা দেখে নিজের ইচ্ছা চুড়ান্ত পর্যায়ে যেত । র‌্যাকেট ছিলো না , মা বলে বাসার ডান পাশে সিম গাছ লাগাতে । সিমের মাচা বানালাম । সিম লাগালাম । সে সিম বেঁচে র‌্যাকেট কিনলাম । নিজের টাকা দিয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠে কিছু কেনাতে মনের কাছেই ভালো লাগলো ।


কপোতাক্ষে বান আসতো । সেসময় নৌকাতে উঠতাম আমি , লিংকন , সানি । ৩-৪ ফুট উপর-নিচু হতো নৌকা । আমাদের মজা ততই বাড়ত । ঐ কোণটাতে বর্শি নিয়ে কয়েকদিন বসেছিলাম মাছ মারার জন্য । একটা মাছও কোনোদিন উঠেনি । পরে রাগের জন্য বর্শি আগুনে পুড়িয়ে ফেলি । শীতের সময় দেখতাম ছোট চাচা চাদর জড়িয়ে কাধেঁর উপর একটা লগিতে ৬-৭ টা ভাড় নিয়ে নদীর ঐ পারে যেত খেজুরের রস আনার জন্য । সকাল ৮টার ভেতরে রস হাজির হতো । কাসার গ্লাসে করে রস খেতাম । তারপর সেই রস উঠানে বসে জ্বাল দেওয়া শুরু হতো । মা , ছোট চাচী অথবা দাদু বসে বসে সেই রস জ্বাল দিতো । বেলা ১২-১টা পর্যন্ত চলতো সেই জ্বাল দেওয়া । যতক্ষন না গুড় হবে ততক্ষন সেইরকম চলতেই থাকবে ।


বাবা তখন বারান্দায় বসে বসে বাংলা রচনা মুখস্ত করাতো । এগুলা ছিলো দাদুবাড়ির কথা । একদিন হঠাৎ এক বসন্তের দুপুরে দাদুবাড়ি ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলাম । নিজের মনের মত বাসা । সামনে কপোতাক্ষ , পেছনে মেইন রোড । টিনের চাল । ইটের গাথনী । নিজের একটা ছোট রুম হলো । গরমের সময়ও বাসাটা থাকতো একদম ঠান্ডা কারণ টিনের উপরেই ছিলো শত বছরের পুরানো সেই আম গাছটি । ছায়া দিয়ে যেতো সে ।



সাইকেল কিনেছিলাম আব্বুর কাছে প্রতিজ্ঞা করে যে চতুর্থ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় ১ থেকে ৩ এর ভেতরে রোল হবে । সাইকেল কিনে দিলো বাবা , কিন্তু ১ থেকে ৩ তো দূরের কথা তখন রোল হলো ৭ । ভাগ্যিস সেদিন ঐ বাসা থেকে দাদুকে ডেকে নিয়ে এসেছিলাম । না হলে শাওন আর থাকত না । তবুও জ্বর ছিলো বেশ কয়েকদিন । বাবা মা দু'জন আমাকে মারতেছে আর দাদু একা ঠেকাচ্ছে , বুড়ির জন্য মোটেও সহজ ব্যাপার নয় । এই দাদুই আমার সব ।


সাতার শিখেছিলামও দাদুর কাছ থেকে । প্রথম প্রথম ঝুনা নারকেল নিয়ে পুকুরে যেতাম । ঝুনা নারকেলে বেশি সুবিধা করা গেলো না । পরে বাসার সামনের মোট সাইকেলের দোকান থেকে টিউব নিয়ে যেতাম , সেটিও শিখতে পারলাম না । পরে বাবা নিজেই দেখলাম একদিন একটা ১০০ টাকা দিয়ে টিউব কিনে নিয়ে এলো । সেটি ছিলো কার্টুনে ভর্তি । সেটি নিয়ে দাদুর সাথে পুকুরেই পড়ে থাকতাম । এভাবেই হলো সাঁতার শেখা ।

mercredi 26 décembre 2007

বিবেকবান মানুষেরা কখনও নাস্তিক হতে পারেনা

সমাজটা আজ দু'ভাগে বিভক্ত । একপক্ষের বিশ্বাস গোটা পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা একজন -> এই পক্ষের মানুষ আস্তিক । অন্য পক্ষের হলো গোটা পৃথিবী এমনি-ই সৃষ্টি হয়ে বসে আছে । নেই কোনো সৃষ্টিকর্তা, নেই কোনো নকশা -> এই পক্ষ হলো নাস্তিক । সমস্যা হলো, আস্তিকরা বলবে : নাস্তিকরাই ভুল অন্যদিকে নাস্তিকরা বলবে : আস্তিকরা ভুল ।
লন্ডনের রাসিস্ট মানুষদের নিয়ে একটা ইনফো দেখছিলাম । ছেলেটার বয়স কতই বা হবে, ১৬ কিংবা ১৭, সেই ছেলেটা বলছে : "ইয়াপ, আই অ্যাম রাসিস্ট ।"
ব্লগেও কিছু নাস্তিক আছে : হ্যা, আমি নাস্তিক ।


কিছু বছর আগে বিগ ব্যাং থিউরীর জন্য নোবেল দেওয়া হয় ব্রাসেলসের জর্জ ল্যাসাৎর । তার বলা সেই কথাটি ছিলো : " শত শত কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তুপুঞ্জএকটি পরমাণুতে একত্র ছিলো । পরে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে জন্ম দেয় অজস্র নক্ষত্রপুঞ্জ এবং সৌরজগতের।"
আর আল্লাহ কোরানে বলেছেন : অবিশ্বাসীরা কি দেখেনা যে, সকল আকাশ ও ভুমন্ডল একত্র ছিলো পরে তা আমি বিচ্ছিন্ন করলাম । প্রতিটি জীবিত প্রাণকণাকে আমি পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, তবুও কি তোমরা বিশ্বাস করবে না ? ( আল কোরান ২১:৩০ )


কিছু কিছু নাস্তিক বিজ্ঞানী আদিকালে প্রশ্ন তুলেছিলো সৃষ্টিকর্তার আস্তিত্বকে প্রমাণিত করার বা কোরানের তথ্যকে ভুল প্রমাণিত করার জন্য যে কিনা বর্তমান ব্লগেও দেখা যাচ্ছে । প্রশ্ন হলো আপনারাই তো কথার মাঝে কার্ল মার্কস , লেলিক বা স্টালিনের ব্যখ্যা টানেন, কিন্তু ওদের তো কোনোদিন দেখেন নি । কি করে ওদের ব্যাখ্যা টানেন ?
অথবা, মনে প্রাণে বিশ্বাস করে '৭১ কে । অনেকেরই দেখার সুজোগ হয়নি এ প্রজন্মের অনেকরই । তাহলে কিভাবে এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন ?


এখন যদি বলেন, আচ্ছা মানলাম সৃষ্টিকর্তা আছে, আছে আল্লাহ । কিন্তু মারা যাওয়ার পর নেই কোনো শেষ বিচার । কারণ আল্লাহ বলছেন : তোমরা কিয়ামতের দিন অতীতের সবকিছু কর্মের ফল পাবে । কিন্তু সেদিন তো সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে তাহলে কি করে আল্লাহ সেটা উপস্থাপন করবে ?
আমার কাছে এই প্রশ্নটা কেমন যেনো লাগে । বর্তমান পৃথিবীতে কি নেই কি । বিজ্ঞান দিনের পর দিন যা দিয়ে যাচ্ছে তা সত্যি অশ্চর্যজনক । পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত দিয়ে যাবে । আমরা কি করে নিশ্চিত যে ওখানেই শেষ বিজ্ঞানের দান ? সিডিতে ভরে কতকিছু দেখানো হচ্ছে, তাহলে আল্লাহ কেনো পারবে না কোনোকিছুতে ভরে পারবে না দেখাতে ?


আস্তিক বা নাস্তিক যাদি সবারই প্রশ্ন করা হয় : আচ্ছা, আপনারা যে বাড়ীটাতে থাকেন সেটি কে তৈরি করেছে ? দু'জনারই প্রশ্ন হবে একি । কিন্তু যদি বলা হয় পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে তাহলে শুরু হয়ে যায় এক পক্ষের এলার্জী । অথবা আরেকটি উধাহরণ দেওয়া যেতে পারে । যেটি হতে পারে আরো এলার্জীজনক । : দেশের সবাই-ই চায় একটা দল দেশের চেয়ারটাতে থাকুক । এক পক্ষ চায় আওয়ামীলীগ , আরেক পক্ষ বি.এন.পি আবার আরেক পক্ষ জামায়াত । যেহেতু সব পক্ষেরই কিছু লোক আছে সেহেতু ৩পক্ষের ৩নেতা বা নেত্রীকে বসিয়ে দিন সিংহাসনে । দেশটা কোনদিকে যায় তার দেখেন ।


একাধিক নেতা বা নেত্রী থাকলে দেশের ২৪টা বাজবে এটাতে শিওর হচ্ছেন আর এই পৃথিবীমন্ডলে একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে কিছুই হবে না ?নাস্তিকতা আসলেই একটি ভুল সাথে ভ্রান্ত পথ । বিবেকবান মানুষেরা কখনও নাস্তিক হতে পারেনা । চিন্তা করুন না একটু বিবেক দিয়ে ।

mardi 4 décembre 2007

জনাব ডারউইন, মেহেরবানী করে শুনুন, আপনার থিওরীকে এড়িয়ে এইযে আমরা কোটি কোটি বছর পার করে , আদিকালের সেই একি প্রজাতি হিসেবে রয়ে গেছি

বর্তমান যামানায় একটা কথা বলা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে সেটা হলো : বামপন্থী না হলে যেমন বুদ্ধিজীবীমহলে আতেঁল হওয়া যায়না তেমনি ডারউইনবাদে বিশ্বাসী না হলে মার্কীন বিজ্ঞানমহলে নামী দামী হওয়া যায়না । ব্যাপারটা এখন অনেকটা ফ্যাশান হয়ে দাড়িঁয়েছে । নব্য বিজ্ঞানীরা একদিকে যেমন আধুনিক বিজ্ঞানকে অস্বীকার করতেও পারছেনা অন্যদিকে ডারউইনবাদকেও ফেলতে পারছেনা । সব মিলিয়ে জগা খিছুড়ি অবস্থা চারদিক ।


"প্রাণীজগত বিবর্তনের ধারায় বর্তমান , সেই হিসাবে মানুষ বানরের বংশধর"- যদি আপনি মনে করেন কথাটি ডারউইনের তাহলে আপনি ভুল করবেন । কথাটি জনাব হেকেল বলেছিলেন ১৮৬৮ সালে । এই দুই বিজ্ঞানীর মতবাদ মিলিয়ে ফেলার মত বিরক্তিকর কাজগুলো করছে এখনকার নাস্তিকবাদী মানুষগুলো । ডারউইন আজও নাস্তিকবাদী শিবিরের একজন পূজনীয় ব্যক্তি ।


আমি বুঝলাম না , যেখানে ডারউইন নিজেও কনফিউজড সেখানে আজকালকার মানুষগুলো কেন এত বাড়াবাড়ি করে । ১৮৬১ সালে ডারউইন থমাস থর্টনকে একটা চিঠি লেখেন । সেই চিঠিতে ডারউইন বলেন : আমি প্রকৃতির নির্বাচনতত্বে বিশ্বাসী । যদিও এই থিওরি অনুযায়ী কোন প্রজাতি এ যাবত পরিবর্তিত অন্য আরেকটি প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে - এমন একটা প্রমাণ আমি দেখাতে পারবো না, তথাপি আমি এই তত্বে বিশ্বাসী । কারণ : এই থিওরি দ্বারা প্রাণী জগতের শ্রেণিবিভক্ত , ভ্রুণতত্ব, বিলুপ্ত সব ঘটনার চমৎকার ব্যাখা সম্ভব ।

দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, ডারউইনবাদ যতটা না জ্ঞান-বিজ্ঞানের সহায়ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে তার থেকে বেশি কাজ হয়েছে আদর্শগত উদ্দেশ্য পূরণের জন্য । ডারউইনের পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত জেনেটিক বিশেষ করে মলিক্যুলার বায়োলজি সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য আমাদের চোখের নাগালে রয়েছে যেসব পড়লে বিবর্তন সংক্রান্ত প্রচুর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব কিন্তু কিছু মানুষ এখনো পড়ে রয়েছে ডারউইনের বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে । কিছু কিছু মানুষ তো মনেই করেন এই থিওরি বাদ দেওয়া মানে আদর্শের পৃষ্ঠে ছুরিঘাত করা । আর এই ডারউইনবাদই ধর্ম আর বিজ্ঞান সংঘাতে নাস্তিক্যবাদের পক্ষে শক্তি যুগিয়েছিলো । হাস্যকর !


শেষে শিরোনাম দিয়েই শেষ করি । ডারউইনের মৃত্যু শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ রাজকীয় ডাকঘর একটি ডাক টিকেট চালু করেছিলো । যেখানে দেখা যায় , ডারউইনের ছবির দুপাসে দুটি সরীসৃপ প্রাণী । সেই সরীসৃপ প্রাণী দুটি ডারউইনকে বলছে : " জনাব, মেহেরবানী করে শুনুন, আপনার থিওরীকে এড়িয়ে এইযে আমরা কোটি কোটি বছর পার করে , আদিকালের সেই একি প্রজাতি হিসেবে রয়ে গেছি" ।

লেখার খোরাক যোগালো : The Origin of man / ডক্টর মরিস বুকাইলি

lundi 3 décembre 2007

সহজ হিসেব কঠিক করার দরকার কি ?

প্রথমে সবার সুবিধার্থে নিজের পরিবারের বর্ণনা দেওয়া প্রোয়োজন । তাই সেটা দিয়েই শুরু করি ।

আমার বাবার দিক থেকে বড় কাকা ছিলেন মুক্তোযোদ্ধা । আমার বাবা যুদ্ধ করেননি । তবে দেশের একজন সাধারণ নাগরীক হিসাবে দেশের রাজনৈতিক খবরাখবর রাখার চেষ্টা করেন ।
আমার বাবা কাকে ভোট দেন ?
তিনি ভোট দেওয়ার সময় আওয়ামী, বি.এন.পি বা কোনো দল দেখেন না । এলকার জন্য যে কাজ করতে পারবে বলে মনে করেন তাকে ভোট দেন । তাই সেটা আওয়ামী লীগের এম.পি হোক বা অন্য কোনোদলের হোক । আমার ছোট কাকা এসবের ধার ধারেন না ।



আমার মার দিক থেকে আমার নানা গোড়া আওয়ামীলীগের সমর্থন করেন । জামাতের বড় বড় রাজনৈতিক বক্ত্তা বরাবরই অপছন্দ করেন । তবে তাকে দেখলে মনে হবে তিনি মনে হয় জাময়াতের বড় কোনো নেতা । রবি ঠাকুরের মত দাড়ি , রাত 3টা থেকে পড়-গোনা , কোরান তেলওয়াত ইত্যাদি ইত্যাদি । আমার মেজ মামা জাসদের সাপোর্টার । আর ছোট মামা খাটি জামায়াতের । আমার নানাদের পরিবারের দিক থেকে অনেকে রাজাকার ছিলো বলে শুনেছি ।


এখন মূল কথায় আসি । ব্লগের অনেকের দেখলাম শেখ মুজিবকে জাতির পিতা হিসাবে মানেন । অবশ্য সেটা বাঙালী জাতির পিতা । কিন্তু তিনি যেটা করেছেন এখন সবাই সেটা করতে পারছেন না । যেমন তিনি যুদ্ধের পর রাজাকারদের ক্ষমা করে দিলেন । তাহলে 36 বছর পর এসে আবার কিসের আন্দোলন রাজাকার হটাও বলে ? আপনারা কি তাহলে পিতার কথা শুনবেন না ?


আমি প্রথমে বলেছিলাম বঙ্গবন্ধু তখন রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়ে সবথেকে বড় ভুল করেছেন । পরে অবশ্য ভাবলাম অন্য জিনিস । তিনি একদিক থেকে ঠিকই করেছেন । একটি যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে এগিয়ে নিতে সেই ক্ষমা ছাড়া আসলেই উপায় ছিলোনা । কত মহান আমার বঙ্গবন্ধু ।

তবে আমি এখনো কনফিউজড আসলেই কে স্বাধীনতার ঘোষক !

তবে অন্য দিক থেকে তিনি ভুল করলেন । দেশে যেই যুদ্ধ লেগে গেলো সেসময় তিনি হানাদার বাহিনীর কাছে ধরা দিলেন । দেশপ্রেম ভালো ভাবে থাকলে তিনি সেসময় বলতে পারতেন : মরতে হয় মরবো তবুও এদেশে থাকবো । আর তাঁর পরিবারের সময় গিয়ে হাজির হলো প্রতিবেশি দেশ ভারতে । শুনেছি তারা নাকি সেসময় 5 তারা হোটেলে খেয়ে পরে ভালোভাবেই দিন কাটিয়েছে । তারা কি পারতো না সেদিন যুদ্ধ করতে ? যেমনটি করেছিলেন জিয়াউর রহমান ?


জিয়ার কথা লেখার সময় হঠাৎ মনে পড়ে গেলো তারেকের কথা । তারেক হয়েছে ঠিক উলটোটা । সন্ত্রাস , চাঁদাবাজ নিয়েই বেঁচে ছিলো (অবশ্য এখন তার ফল ভোগ করছে ) যেমনটি করেছিলো যুদ্ধর পর শেখ মুজিবের 2 ছেলে শেখ কামাল আর জামাল । শেখ কামাল বাবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুন , সন্ত্রাসী করে বেড়িয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ে 200-250 জন ঢুকিয়েছে ।


জননেত্রি যখন চোরের মা বলে গলা ফাটান তখন তিনি কার দিকে আঙ্গুল দেখান সেটা ক্লাস 2 পড়ুয়া একটি ছেলেও বোঝে । তার একটু চিন্তা করার দরকার তার ভাইদের নিয়েও ।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে । চেয়েছিলেন দেশকে পুনরুদ্ধার করতে , চেয়েছিলেন আবার সোনার বাংলাদেশ গড়তে । তিনি সেটা পারেন নি । আমাদেরকে সেটা পারতে হবে । আর যদি সেটা পারতে হয় তবে কে রাজাকার ছিলো আর কে যুদ্ধ করেছিলো সেটা দেখলে হবেনা । কাজ করতে হবে একসাথে ।36 বছর পর এসে দেশকে আবার দুই খন্ডে ভাগ করার জন্য উঠেপড়া বন্ধ করতে হবে । যেমনটি করতে চেয়েছিলেন তখনকার 2 নেতা ।


সালাম তাদেরকে । সালাম সেইসব শহীদদের যাঁরা বাংলাদেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন । আমাদের মা ( দেশকে ) আবার ফিরিয়ে আমাদেরকে দিয়েছেন ।